মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১এমডিবি বিনিয়োগ তহবিলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এই রায় আদালতে ঘোষণা করা হয়।
নাজিব ইতিমধ্যেই এই কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২২ সাল থেকে সাজা ভোগ করছেন। নতুন রায়টি আগের বিচারিক রায়ের উপর ভিত্তি করে এসেছে। আদালতে উপস্থিত নাজিব ক্ষমা চেয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি তহবিলের কর্মকর্তাদের ও ব্যবসায়ী জো লোর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। নাজিব আরও বলেছেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রযোজ্য।
বিচারক বলেন, “আপনার কাছে পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল অর্থ যাচাই করার, কিন্তু তা করা হয়নি।” নাজিব আদালতে দাবি করেছেন যে টাকা সৌদি রাজপরিবারের অনুদান, তবে আদালত তার এ দাবিকে নাকচ করেছে। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। নাজিবও দেশবাসীর কাছে ধীরস্থির ও যুক্তিসঙ্গতভাবে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব
নাজিবের এই রায় মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার দল UMNO এখনও ক্ষমতাসীন জোটের অংশ হওয়ায় জোটের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাজিবের সমর্থকরা রায়টিকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তিনি বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করবেন না।
১এমডিবি কেলেঙ্কারি
নাজিব ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার সময় ১এমডিবি বিনিয়োগ তহবিল চালু করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ২০০৯–২০১৩ সালের মধ্যে তহবিলের সিনিয়র কর্মকর্তারা এবং তাদের সহযোগীরা প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৮৪ বিলিয়ন ইউরো) চুরি করেছেন। এই অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত নাজিবের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গেছে।
ঘটনায় আন্তর্জাতিক ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও জড়িত ছিল। তারা তহবিলের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। দুইজন প্রাক্তন ব্যাংকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং তহবিলের টাকা আত্মসাৎ অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে তারা কারাগারে যান।
১এমডিবি কেলেঙ্কারি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হয়।























