ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

বাংলাদেশ ইস্যুতে সুর চড়ালেন শুভেন্দু, সম্পর্ক ছিন্নের ডাক

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে ফের তীব্র অবস্থান নিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ময়মনসিংহে দীপু দাস নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সেখানে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে—তা স্পষ্টভাবে জানানো না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। এমনকি ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যত দিন না বাংলাদেশ উপদূতাবাস থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যাচ্ছে এবং দীপু দাস হত্যার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানানো হচ্ছে, তত দিন আন্দোলন চলবে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না এলে এই আন্দোলন ‘তীব্র থেকে তীব্রতর’ হবে।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ একাধিক কট্টরপন্থি সংগঠনের ডাকে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানের কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা উপদূতাবাসের দিকে এগোলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন আরও বলেন, উপদূতাবাসে কথা বলার সুযোগ না পেলে তারা বাইরে থেকেই আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন। যদিও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। পরে তিনি উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় হলেও তার ব্যক্তিগত মত হলো—বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও লেনদেন বন্ধ করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যেরও সমর্থন জানান। হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। শুভেন্দুর দাবি, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর নেতারাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো বোঝেন, তাই হিমন্তের বক্তব্য যথার্থ।

এদিকে শুভেন্দুর এই অবস্থানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তারা প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কেন নীরব। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

তৃণমূল আরও দাবি করেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার ‘পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো আচরণ’ করছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রনেতার মতো ভূমিকা নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, তৃণমূল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছে—যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময় সক্রিয়, তিনি দীপু দাস হত্যার ঘটনায় চুপ কেন। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার কারণেই কি এই নীরবতা। পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ, এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে চাইছে।

তৃণমূল আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, কয়েক মাস আগেই শুভেন্দু অধিকারী ইউনূস সরকারের প্রশংসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তারা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকারের চেয়ে ভালো কাজ করছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, কোনও বিজেপি নেতা যদি দেশের নির্বাচিত সরকারকে খাটো করে অন্য দেশের শাসনের প্রশংসা করেন, তবে সেটি কি দেশবিরোধী আচরণ নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশ ইস্যুতে সুর চড়ালেন শুভেন্দু, সম্পর্ক ছিন্নের ডাক

আপডেট সময় : ১১:১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে ফের তীব্র অবস্থান নিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ময়মনসিংহে দীপু দাস নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সেখানে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে—তা স্পষ্টভাবে জানানো না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। এমনকি ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যত দিন না বাংলাদেশ উপদূতাবাস থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যাচ্ছে এবং দীপু দাস হত্যার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানানো হচ্ছে, তত দিন আন্দোলন চলবে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না এলে এই আন্দোলন ‘তীব্র থেকে তীব্রতর’ হবে।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ একাধিক কট্টরপন্থি সংগঠনের ডাকে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিযানের কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা উপদূতাবাসের দিকে এগোলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন আরও বলেন, উপদূতাবাসে কথা বলার সুযোগ না পেলে তারা বাইরে থেকেই আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন। যদিও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। পরে তিনি উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় হলেও তার ব্যক্তিগত মত হলো—বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও লেনদেন বন্ধ করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যেরও সমর্থন জানান। হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। শুভেন্দুর দাবি, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর নেতারাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো বোঝেন, তাই হিমন্তের বক্তব্য যথার্থ।

এদিকে শুভেন্দুর এই অবস্থানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তারা প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কেন নীরব। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

তৃণমূল আরও দাবি করেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার ‘পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো আচরণ’ করছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রনেতার মতো ভূমিকা নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, তৃণমূল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছে—যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময় সক্রিয়, তিনি দীপু দাস হত্যার ঘটনায় চুপ কেন। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার কারণেই কি এই নীরবতা। পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ, এই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্য বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে চাইছে।

তৃণমূল আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, কয়েক মাস আগেই শুভেন্দু অধিকারী ইউনূস সরকারের প্রশংসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তারা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকারের চেয়ে ভালো কাজ করছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, কোনও বিজেপি নেতা যদি দেশের নির্বাচিত সরকারকে খাটো করে অন্য দেশের শাসনের প্রশংসা করেন, তবে সেটি কি দেশবিরোধী আচরণ নয়।