তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০১:৪২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ আদালত। একই সঙ্গে উভয়কে ভারী অঙ্কের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)–এর বিশেষ আদালতের বিচারক বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ইমরান খান ও বুশরা বিবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আদালত সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খান বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে পাওয়া বিপুলমূল্যের উপহার রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী তোশাখানায় জমা না দিয়ে তা কম মূল্যে নিজের নামে দেখান। অভিযোগ রয়েছে, এসব উপহার পরে অবৈধভাবে বিক্রি বা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়, যার ফলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।
এই মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।
রায়ে আদালত ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে পৃথকভাবে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের সাজা আরও বাড়তে পারে বলে আদেশে বলা হয়।
তোশাখানা-২ মামলাটি ২০২৪ সালে দায়ের হয়। তদন্তে উঠে আসে, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া দামি গহনা ও অন্যান্য উপহার সরকারি রেকর্ডে সঠিকভাবে দেখানো হয়নি। এফআইএ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এর আগেও তোশাখানা সংক্রান্ত একাধিক মামলায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যা পাকিস্তানের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রায়ের পর পিটিআই নেতারা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই ধারাবাহিকভাবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দল ও বিরোধী দলগুলোর একাংশ এই রায়কে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা দ্রুতই উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে এর বড় প্রভাব পড়বে।























