ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

হিজলার মাউলতলা স্কুলে অনিয়ম, শিক্ষা কার্যক্রম বিপন্ন

​নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা পত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই এখন প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

​নিয়োগ নিয়ে বির্তক ও অর্থ লেনদেন
​অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মোবারক হোসেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত করে তিনি এই চেয়ারটি দখল করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের চেয়ে নিজের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

​ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা পরিবেশ
​মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নিয়মিত স্কুলে না আসা, শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের ফান্ডের হিসাব নিয়ে অস্বচ্ছতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন:

​”আমরা আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় এই স্কুলে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু বর্তমান প্রধান শিক্ষকের একক আধিপত্য আর দুর্নীতির কারণে স্কুলের সেই ঐতিহ্য আর নেই।”

​চলছে আর্থিক লুটপাট
​বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দ, ছাত্র-ছাত্রীদের সেশন ফি এবং উন্নয়ন খাতের বড় একটি অংশ প্রধান শিক্ষক কোনো রসিদ ছাড়াই খরচ দেখাচ্ছেন। সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি এখনও পুরোনো কায়দাতেই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

​তদন্তের দাবি
​বিদ্যালয়টির গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ। তারা মোঃ মোবারক হোসেনের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনঃতদন্তসহ তার আমলে হওয়া সমস্ত আর্থিক লেনদেনের অডিট দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।,

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হিজলার মাউলতলা স্কুলে অনিয়ম, শিক্ষা কার্যক্রম বিপন্ন

আপডেট সময় : ০৩:০০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই এখন প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

​নিয়োগ নিয়ে বির্তক ও অর্থ লেনদেন
​অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মোবারক হোসেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত করে তিনি এই চেয়ারটি দখল করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের চেয়ে নিজের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

​ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা পরিবেশ
​মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে বিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নিয়মিত স্কুলে না আসা, শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং বিদ্যালয়ের ফান্ডের হিসাব নিয়ে অস্বচ্ছতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন:

​”আমরা আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় এই স্কুলে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু বর্তমান প্রধান শিক্ষকের একক আধিপত্য আর দুর্নীতির কারণে স্কুলের সেই ঐতিহ্য আর নেই।”

​চলছে আর্থিক লুটপাট
​বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দ, ছাত্র-ছাত্রীদের সেশন ফি এবং উন্নয়ন খাতের বড় একটি অংশ প্রধান শিক্ষক কোনো রসিদ ছাড়াই খরচ দেখাচ্ছেন। সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি এখনও পুরোনো কায়দাতেই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

​তদন্তের দাবি
​বিদ্যালয়টির গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ। তারা মোঃ মোবারক হোসেনের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনঃতদন্তসহ তার আমলে হওয়া সমস্ত আর্থিক লেনদেনের অডিট দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।,